,
সংবাদ শিরোনাম :

প্রতিকার নহে প্রতিরোধ করিতে হইবে

দেশে এক্ষণে এমন পরিবার পাওয়া কঠিন যেইখানে কাহারো না কাহারো ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি অথবা লিভারের সমস্যা কিংবা ক্যান্সারের মতো রোগ নাই। এইসকল রোগ হইল অসংক্রামক। আর অসংক্রামক রোগ টেকসই উন্নয়নের পথে অন্যতম বৃহত্ প্রতিবন্ধক হিসাবে চিহ্নিত হইয়াছে অনেক আগেই। পৃথিবীব্যাপী প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণ এই অসংক্রামক রোগ। দেশে বত্সরে যে সাড়ে আট লক্ষের মতো মানুষের মৃত্যু ঘটে তাহার মধ্যে ৬২ শতাংশই মারা যায় অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হইয়া। এই জাতীয় রোগ কেবল মৃত্যুঝুঁকির প্রধান কারণই নহে, দীর্ঘস্থায়ী অক্ষমতা ও পঙ্গুত্বের অন্যতম কারণও বটে। দেশে বর্তমানে এই অসংক্রামক রোগ মারাত্মক রূপ ধারণ করিয়াছে। গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনার হইতে জানা যায়, বাংলাদেশে ফাস্টফুড গ্রহণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাইতেছে। ইহাকে অসংক্রামক রোগ বিস্তারের অন্যতম কারণ হিসাবে চিহ্নিত করিয়া ফাস্টফুড গ্রহণ যাহাতে বৃদ্ধি না পায়, তাহার জন্য সচেতনতার পাশাপাশি ভেজালবিরোধী অভিযানও জোরদার করিবার কথা সেমিনারে উল্লেখ করা হয়।
অসংক্রামক রোগ, অর্থাত্ যাহা কোনো জীবাণু দ্বারা সৃষ্টি হয় না—এমন রোগের নেপথ্যে রহিয়াছে অসংখ্য কারণ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, বিষাক্ত খাদ্যগ্রহণ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবন যাত্রার ধরন পরিবর্তনের ফলে আশঙ্কাজনক হারে বিস্তার ঘটিতেছে নানাবিধ অসংক্রামক রোগের। আরো বিপদের কথা হইল—বেশির ভাগ অসংক্রামক রোগের চিকিত্সা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এসব রোগের চিকিত্সার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয় বিধায় তাহা অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর। অন্যদিকে চিকিত্সা করাইলেও যে ভালো হইবে, তাহার নিশ্চয়তা নাই। আসলে বিশ্বের বেশিরভাগ উন্নয়শীল দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রোগ প্রতিরোধ নহে রোগের চিকিত্সাকে প্রধানত গুরুত্ব দেওয়া হইয়া থাকে। এই সমস্যা আমাদের দেশেরও। অন্যদিকে মানুষ সাধারণত তখনই স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হয়, যখন প্রাণঘাতী কোনো রোগে কেহ আক্রান্ত হয়। অর্থাত্ তখনই প্রয়োজনীয়-নিয়মানুবর্তী জীবনযাপন করিতে দেখা যায় যখন কাহারো শরীরে ডায়াবেটিস, হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, ক্যান্সারের মতো রোগ বা ইহার উপসর্গ দেখা দেয়।
প্রকৃতপক্ষে এইসব ব্যাপারে আগেই যদি সচেতন থাকা যায়, জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস যদি স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গড়িয়া তোলা যায়, তবে এই অসংক্রামক রোগের মাত্রা এতখানি প্রকট আকার ধারণ করিবার সুযোগ পাইবে না। সুতরাং অপরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা বা ব্যায়াম এবং কায়িক শ্রমের অভাবের পাশাপাশি অপুষ্টিগত সমস্যার দিকেও বিশেষ নজর দিতে হইবে। কোমল পানীয়, ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুড, খাদ্যদ্রব্য, রাসায়নিকের ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাও অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করিতেছে। স্পষ্টতই, আমরা যদি এইসব ব্যাপারে একটু সচেতন হই, তাহা হইলে এইসব অসংক্রামক রোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভবপর হইবে। প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধের দিকেই সর্বাগ্রে নজর দিতে হইবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Post

সর্বশেষ আপডেট

প্রকাশক/সম্পাদকঃমো:বোরহানহাওলাদার জসিম)নির্বাহী সম্পাদকঃমোঃ বশির উল্লা
ব্যবস্হা পনা সম্পাদকঃমোঃখোকন আহাম্নেদ
মোবাইল:০১৭১৮-৭০৫৮৯৯.০১৯১২৩৩৮৮৩৪

অফিস : ৩/৪ এ পুরানা পল্টন, সাব্বির টাওয়ার (লিফটের-৮, ১০ম তলা), রুম নং - ১০০৭, ঢাকা-১০০০
ইমেইল:nncbdtv@gmail.com.bhorerdhani@gmail.com.